Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts
Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts

Thursday, 12 September 2013

দুই দলের অনড় অবস্থানের মধ্যে সংসদ বসছে আজ


সরকারপক্ষ বলছে, নির্বাচনকালীন সরকারপদ্ধতি নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে। তবে যে পদ্ধতির সরকারই হোক না কেন, সেই সরকারের প্রধান হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলছে, আলোচনা সংসদের বাইরে হতে হবে। নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কেমন হবে, সে নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশের প্রধান দুই দলের এই অনড় অবস্থানের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা থেকে নবম জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশন বসছে। যথাসময়ে নির্বাচন হলে এটিই হতে পারে এই সংসদের শেষ অধিবেশন।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই অধিবেশন অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত চললে এরপর একান্ত প্রয়োজন ছাড়া অধিবেশন ডাকার সুযোগ খুব বেশি থাকবে না। কারণ, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে হলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। সংসদের অধিবেশন কত দিন চলবে, সে বিষয়ে আজ সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থা আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে।
রাজনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, রাজনৈতিক সংকটের যেসব বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ আছে, সেসব বিষয়ে এই অধিবেশনেই আলোচনা করতে হবে। দুই দলের অনড় অবস্থান এবং বিদেশিদের তাগিদ মিলিয়ে সংসদের এই অধিবেশনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে তাঁরা মনে করেন।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, তারা সংসদে যাবে। তবে কবে থেকে তারা অধিবেশনে যোগ দেবে, সে সিদ্ধান্ত গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে প্রধান দুই দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা চাইলে আমি বিধি অনুযায়ী আলোচনার ব্যবস্থা করব।’
সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। এই হিসাবে ২৭ অক্টোবর থেকে আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। কারণ, বর্তমান সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি। তবে কোনো কারণে মেয়াদ শেষের আগে সংসদ ভেঙে গেলে, ভেঙে যাওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি বিলোপের পর বিরোধী জোট এই ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। তবে সম্প্রতি তারা ‘তত্ত্বাবধায়ক’ ব্যবস্থার ওপর জোর না দিয়ে ‘নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার’ ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছে। বিষয়টি নিয়ে তারা সংসদের বাইরে সংলাপ করতে চায়। বিএনপির মতে, সংসদ বিতর্কের জায়গা, আলোচনার জায়গা নয়। নির্দলীয় সরকারব্যবস্থা নিয়ে সংসদে আলোচনা হলে ভোটাভুটিতে তারা হেরে যাবে। সে জন্য বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করা অর্থহীন।
এদিকে সরকার তার অবস্থানে অনড় থাকার কথা আবারও জানিয়ে দিয়েছে। গতকাল পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ব্রিটেন, ভারত, জাপানসহ অনেক দেশেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হন প্রধানমন্ত্রী। এখানেও প্রধানমন্ত্রীই হবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান। বিরোধী দলের কোনো প্রস্তাব থাকলে সংসদে গিয়ে দিতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন প্রক্রিয়া, কার্যপ্রণালি এবং নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে সংবিধানের বাইরে কিছু হবে না। কারও দলীয় দাবি পূরণের জন্য সংবিধান সংশোধন করা হবে না।
নজির হতে যাচ্ছে: বর্তমান সংসদ আর মাত্র সাত কার্যদিবস চললে বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে একটি অনন্য নজির সৃষ্টি হবে। এর আগে সর্বোচ্চ ৪০০ কার্যদিবস বৈঠক বসেছিল পঞ্চম সংসদে। বর্তমান সংসদের এখন পর্যন্ত কার্যদিবসের সংখ্যা ৩৯৪। এখন সাত কার্যদিবস সংসদ বসলে পঞ্চম সংসদের রেকর্ড ভঙ্গ হবে।
সুত্র: prothom-alo.com

বান কি মুনের ফোনের পর জন কেরির চিঠি

সংলাপে সাড়া নেই
Untitled-15
চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে দুই নেত্রীকে সংলাপের অনুরোধ জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের টেলিফোনের দুই সপ্তাহ পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি তাঁদের চিঠি পাঠালেন। এর পরও সরকার বা সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংলাপের কোনো উদ্যোগ নেই।
এদিকে বিরোধী দল বিএনপি জন কেরির চিঠিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, তারা সংলাপে বসতে রাজি। তবে বিরোধী দলও সংলাপ শুরু করতে আনুষ্ঠানিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
জন কেরি দুই নেত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন গত রোববার। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদল গতকাল আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে দেখা করে সংলাপে বসার অনুরোধ জানিয়েছে। সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, প্রধানমন্ত্রী চিঠি পড়লেও এ বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত দলীয় নেতাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
সরকারি দলের নেতারা গতকালও বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকারপদ্ধতি নিয়ে বিরোধী দলের কোনো প্রস্তাব থাকলে তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে পারে। কিন্তু সরকার সংবিধানের বাইরে কোনো প্রস্তাব মানবে না।
‘দ্রুত ইতিবাচক সংলাপে বসার’ অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে দেওয়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠিতে বলা হয়েছে, সব দলের অংশগ্রহণে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন না হলে বাংলাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা গত রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ও বিএনপির গুলশানের কার্যালয়ে চিঠি দুটি পৌঁছে দেন।
জানতে চাইলে মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র ক্যালি ম্যাকার্থি গতকাল জন কেরির চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কেরি চিঠিতে দুই নেত্রীকে ইতিবাচক সংলাপে বসতে উৎসাহ জুগিয়েছেন।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে বান কি মুন দুই নেত্রীকে ফোন করার দুই সপ্তাহের মাথায় একই প্রক্রিয়ায় শরিক হলো যুক্তরাষ্ট্র। আর চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই প্রথম দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে তাগিদ দিলেন। এর আগে ২৩ আগস্ট সকালে ও সন্ধ্যায় যথাক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীকে ফোন করে সংলাপে বসার তাগিদ দেন বান কি মুন।
কেরির চিঠি: ঢাকা ও ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো প্রথম আলোকে জানিয়েছে, দুই নেত্রীকে পাঠানো চিঠিতে দুই দেশের সম্পর্কের তাৎপর্য ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের গুরুত্বের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই পৃষ্ঠার চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠির প্রতিপাদ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জন কেরি দ্রুত ইতিবাচক সংলাপে বসার তাগিদ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সংলাপে বসতে জাতিসংঘের মহাসচিবের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
জানা গেছে, দুই পৃষ্ঠার চিঠির শুরুতে জন কেরি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিবিড় ও আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য-সম্পর্ক সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ও কানেকটিভিটির গুরুত্বের কথাটি জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে জন কেরি চিঠিতে বলেছেন, চলমান রাজনৈতিক বৈরিতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ব্যাহত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দুই পক্ষকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংলাপে বসার অনুরোধ জানিয়েছেন। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি এ মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ফাঁকে দুই দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আলোচনার টেবিলে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
বাংলাদেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নাগরিক সমাজের কাজ করার যথাযথ ক্ষেত্র দেওয়া উচিত বলেও মত দিয়েছেন জন কেরি।
আওয়ামী লীগ যা ভাবছে: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জন কেরির চিঠি নিয়ে রোববার ড্যান মজীনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রেড ব্লকে (যে অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক কক্ষ) চলে যান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনো সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ ছিল না। পরে পাশের ভবনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এম জিয়াউদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে চিঠিটি গ্রহণ করেন। জিয়াউদ্দিন ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠিটি পৌঁছে দেন।
আওয়ামী লীগের নেতাদের মত হচ্ছে, সরকার সংলাপের বিপক্ষে নয়। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সঙ্গে তাঁরা আলোচনায় প্রস্তুত। সংবিধানসম্মত সমাধানে আওয়ামী লীগের আলোচনায় আগ্রহ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, এ মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী যোগ দিচ্ছেন না। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বান কি মুনের সঙ্গে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা ছিল।
সাড়া দিতে প্রস্তুত বিএনপি: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, সরকারের একগুঁয়েমি আচরণের জন্য আগামী নির্বাচন নিয়ে বিশ্বনেতারা উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির চিঠিতে সংকট সমাধানে সংলাপের কথা বলা হয়েছে। বিএনপি এই আহ্বানে সাড়া দিতে প্রস্তুত আছে।
বিভিন্ন পক্ষের উদ্যোগ: জন কেরি এমন এক সময় দুই নেত্রীকে চিঠি দিলেন, যখন পরিস্থিতি মূল্যায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি তথ্যানুসন্ধানী দল ঢাকা সফর করছে। আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশে ইউরোপের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রতিনিধিদলটি রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে।
সংলাপের অনুরোধ নিয়ে বান কি মুনের টেলিফোনের দুই দিন আগে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জুন দুই দলকে সংলাপে বসার আহ্বান জানান। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে চীনের এ অবস্থান কিছুটা ব্যতিক্রমী। কারণ, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে সব সময় নীরব থাকার পথেই হেঁটেছে চীন।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে চীনের পাশাপাশি গত এপ্রিলে ঢাকায় কর্মরত ১০টি মুসলিম দেশের উদ্যোগ কিছুটা কৌতূহল সৃষ্টি করে। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত শায়ের মোহাম্মদের নেতৃত্বে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, মরক্কো, ওমান, মিসর ও লিবিয়ার রাষ্ট্রদূতেরা বিরোধীদলীয় নেত্রীর সঙ্গে দেখা করে সংলাপের মাধ্যমে সংকট দূর করার তাগিদ দেন। প্রয়োজনে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূর করতে সরকারি দলের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখান তাঁরা। সরকারের পক্ষ থেকে সাড়া না দেওয়ায় এসব দেশের কূটনীতিকদের আর সরব হতে দেখা যায়নি।
সুত্র: prothom-alo.com

লন্ডনে লাঞ্ছিত তথ্যমন্ত্রী ইনু


hasanul-inu
লন্ডনে লাঞ্ছিত হলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। লন্ডনের একটি অনষ্ঠানে কয়েকজন বাংলাদেশির আক্রমনের শিকার হন তিনি।
অতিকথন প্রিয় এ রাজনীতিক প্রায়ই উল্টা পাল্টা কথার জন্য বেশ সমালোচিত।
জানা যায়, লন্ডনের ডেভেনপোর্টে স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলের ভিতরে এ ঘটনা ঘটে।
চ্যনেলটির রিসিপশনস রুমে ঢুকে কয়েক যুবক তাকে এলোপাথারি চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি দিতে থাকে।
চ্যানেলটির সিসি ক্যমেরায় ধারণকৃত ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের আটক করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
এদিকে, তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় লন্ডনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন বলে জানানো হয়েছে।
সুত্র: http://www.newsevent24.com

দুই দলের অনড় অবস্থানের মধ্যে সংসদ বসছে আজ


সরকারপক্ষ বলছে, নির্বাচনকালীন সরকারপদ্ধতি নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে। তবে যে পদ্ধতির সরকারই হোক না কেন, সেই সরকারের প্রধান হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলছে, আলোচনা সংসদের বাইরে হতে হবে। নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কেমন হবে, সে নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশের প্রধান দুই দলের এই অনড় অবস্থানের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা থেকে নবম জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশন বসছে। যথাসময়ে নির্বাচন হলে এটিই হতে পারে এই সংসদের শেষ অধিবেশন।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই অধিবেশন অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত চললে এরপর একান্ত প্রয়োজন ছাড়া অধিবেশন ডাকার সুযোগ খুব বেশি থাকবে না। কারণ, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে হলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। সংসদের অধিবেশন কত দিন চলবে, সে বিষয়ে আজ সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থা আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে।
রাজনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, রাজনৈতিক সংকটের যেসব বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ আছে, সেসব বিষয়ে এই অধিবেশনেই আলোচনা করতে হবে। দুই দলের অনড় অবস্থান এবং বিদেশিদের তাগিদ মিলিয়ে সংসদের এই অধিবেশনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে তাঁরা মনে করেন।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, তারা সংসদে যাবে। তবে কবে থেকে তারা অধিবেশনে যোগ দেবে, সে সিদ্ধান্ত গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে প্রধান দুই দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা চাইলে আমি বিধি অনুযায়ী আলোচনার ব্যবস্থা করব।’
সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। এই হিসাবে ২৭ অক্টোবর থেকে আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। কারণ, বর্তমান সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি। তবে কোনো কারণে মেয়াদ শেষের আগে সংসদ ভেঙে গেলে, ভেঙে যাওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি বিলোপের পর বিরোধী জোট এই ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। তবে সম্প্রতি তারা ‘তত্ত্বাবধায়ক’ ব্যবস্থার ওপর জোর না দিয়ে ‘নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার’ ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছে। বিষয়টি নিয়ে তারা সংসদের বাইরে সংলাপ করতে চায়। বিএনপির মতে, সংসদ বিতর্কের জায়গা, আলোচনার জায়গা নয়। নির্দলীয় সরকারব্যবস্থা নিয়ে সংসদে আলোচনা হলে ভোটাভুটিতে তারা হেরে যাবে। সে জন্য বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করা অর্থহীন।
এদিকে সরকার তার অবস্থানে অনড় থাকার কথা আবারও জানিয়ে দিয়েছে। গতকাল পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ব্রিটেন, ভারত, জাপানসহ অনেক দেশেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হন প্রধানমন্ত্রী। এখানেও প্রধানমন্ত্রীই হবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান। বিরোধী দলের কোনো প্রস্তাব থাকলে সংসদে গিয়ে দিতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন প্রক্রিয়া, কার্যপ্রণালি এবং নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে সংবিধানের বাইরে কিছু হবে না। কারও দলীয় দাবি পূরণের জন্য সংবিধান সংশোধন করা হবে না।
নজির হতে যাচ্ছে: বর্তমান সংসদ আর মাত্র সাত কার্যদিবস চললে বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে একটি অনন্য নজির সৃষ্টি হবে। এর আগে সর্বোচ্চ ৪০০ কার্যদিবস বৈঠক বসেছিল পঞ্চম সংসদে। বর্তমান সংসদের এখন পর্যন্ত কার্যদিবসের সংখ্যা ৩৯৪। এখন সাত কার্যদিবস সংসদ বসলে পঞ্চম সংসদের রেকর্ড ভঙ্গ হবে।
সুত্র: prothom-alo.com